শহর ও নগরগুলিতে বিবাহ বহির্ভূত পরকীয়ার হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশী। সমীক্ষা বলছে সারা ভারতে বড় বড় সিটিগুলিতে এই প্রবণতা বেশী হলেও অবাক করার বিষয় এই তালিকায় এগিয়ে আছে কোলকাতা। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি, রামনগর এলাকা দ্রুত পরকীয়ার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।পরকীয় আইনসিদ্ধ হওয়ায় নাকি প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যস্ত সমাজ, ব্যস্ত প্রতিটি পুরুষ। এমনকি নারীরাও ব্যাস্ত। জীবন একখেয়েমী। তাই বোধ হয় নরনারী পরকীয়ায় জড়িয়ে শান্তি খুঁজছে, সুখ খুঁজছে। নারীরা এগিয়ে থাকলেও পুরুষরা তো জড়িয়ে পড়ছে বা জড়াতে চাইছে। তাই একতরফা নারীকে দোষ দিলে হবে না, পুরুষও সমানে দায়ী। আসলে স্বামীরা রোজগারে জন্য বেশীর ভাগ সময় বাহিরে থাকছে। কোন কোন ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে রোজগারের জন্য দূরে দূরে থাকছে। সেক্ষেত্রে তো উভয়ে সহজে পরকীয়ায় জড়াবে। মূল কথা হলো- দাম্পত্য জীবন মানে সেক্স এণ্ড লাভ। সেখান থেকে বংশবিস্তার। একটা মায়ার জগতে আটকে পুরুষ ও নারী জীবন কাটায়। আজকাল মাইক্রো ফ্যামিলির যুগ। স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে ব্যস্ত ও মুক্ত। তাই পরকীয়ায় জড়ানোটা স্বাভাবিক। হয়তো এই কারণে, রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয় লিখেছেন-কোন পুরুষ এক নারীতে তুষ্ট নয়, কোন নারীও এক পুরুষে তুষ্ট নয়। আধুনিক সমাজে সেটা অক্ষরে অক্ষরে প্রমানিত। মূলত আজকের সমাজে স্বামীরা কাজের চাপে বাহিরে বেশী সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। স্বামীদের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে স্ত্রী একাকী থাকছে এবং মোবাইল ফোনের কল্যাণে অন্য কোন পুরুষ বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত যে কোন একজনের সঙ্গে মনে প্রাণে জড়িয়ে পড়ছে। তা দুরে হোক বা কাছের কোন পুরুষ এসে যাচ্ছে । নারীর কাছে। যে পুরুষটা বেশী সময় স্ত্রী থেকে দূরে থাকছে সেও অন্য কোন নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় – জড়িয়ে পড়ছে। নতুবা গণিকালয়ে যাচ্ছে। গণিকা বৃত্তি এখন হয়ে উঠেছে একটা কর্মক্ষেত্র বা উপার্জনের পথ। গণিকালয় ছাড়িয়ে পর্যটন ক্ষেত্রের লজ হোটেল বা বোথেল, বিউটি পার্লার, ম্যাসেজ পার্লার কিংবা – ব্যাক্তিগত কোন রুমে চলছে অবাধে যৌনতা কেনাবেচা। যৌনতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে মানব প্রাজতিতে। বিবাহ – প্রথার প্রচলন যখন হয়নি তখন নর নারীর যৌন সম্পর্ক কোন নিয়মে বাঁধা ছিল না। সেখানে নাবালক সাবালক এ কোন বিভাজন ছিল না। এমনকি কোন সম্পর্কের কোন বাঁধন ছিল না। মুক্ত যৌনতা ও বংশ বিস্তার। কিন্তু – মানুষের ঘিলুর উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ একগামী হতে শুরু করে এবং বিবাহ প্রথার প্রচলন করে। পরিবার বা – সমাজে একটা সম্পর্ক তৈরী করে। যেখানে যৌনতা একটা নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে বাঁধা পড়ে। কিন্তু বিভিন্ন তথাকথিত উন্নত দেশে একনও সেই মুক্ত যৌনতা আছে। মুক্ত যৌনতা মানে সমস্যা ও সংকট সমানে রয়েছে। এসব নিয়ে আইন আদালত যেমন রয়েছে তেমনি খুন খারাপির ঘটনা রয়েছে। সেই প্রশ্চাত্যের রেশ ভারতে এসে গেছে দুতিন দশক আগে থেকে। যা বর্তমানে মুক্ত যৌনতার দিকে ভারতের নর নারীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু বিবাহিত নর নারী নয়, অববিহিত ছেলে মেয়েরাও এখন মুক্ত যৌনতার জোয়ারে ভাসছে। এই প্রবণতা ক্রমশ – বাড়ছে। ভারতের বা বাংলার যংস্কৃতির পরিপন্থী হলেও এই সব কালচার এখন জলভাত। ভারতের কোন কোন রাজ্যে বিশেষ করে পঃ বঙ্গে দম্পত্তিরা এখন একটা সন্তান নিচ্ছেন। আবার সঙ্গে বন্ধ্যাত্ব হার বাড়ছে। পঃবঙ্গে জন্ম হার এক শতাংশে নেমে এসেছে। তবে মুসলিম প্রধান জেলাগুলিতে জন্মহার বাড়ছে।

