২৬ শে বাংলায় গেরুয়া শিবিরের জয় প্রায় কি নিশ্চিত?     —প্রসূন করন

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আগামী দিনের যে একটি বড় ধরনের পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে তা এখন রাজনৈতিক মহলে বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। রাজ্যে সবকটি জেলায় এই উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপি উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখলেও ২০০ আসনে ধাক্কা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকরা বলছে, ১৫২ থেকে ১৬৮ আসনের মধ্যে থমকে যাবে।
এই সীমাবদ্ধার কারণ বহুমুখী রাজ্যে কিছু এলাকায় এখনো তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী সংগঠন কিছু অঞ্চলে আঞ্চলিক নেতৃত্ব জনপ্রিয়তা গ্রাম স্তরে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের নেটওয়ার্ক বিজেপির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
বিজেপিকে মানুষ চাইলেও রাজ্যের এবং দিল্লির নেতৃত্বে কার্যকারিতা সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে।
পঃ বঙ্গে এস আই আর হলে তর্কের খাতিরে যদি  ধরে নেওয়া যায় যে, প্রায় দেড় কোটি ভোটার কমবে। তাহলেও রাজ্যে সাত কোটির বেশী ভোটার থাকবে। অঙ্কের হিসাবে শাসক দলের ভোট কমবে।   তাহলেও পরিস্থিতি এমন হয়নি যে, পঃ বঙ্গের মুসলিম ভোট শাসক দলের পাশ থেকে সরে যাবে। তাছাড়া হিন্দু মুসলিম মহিলা ভোট শাসক দলের পক্ষে থাকবে।
এছাড়াও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষজন কে ভাতা খয়রাতে খুশি করা হবে।
রাজ্যে এমন ৭৪ টি আসন রয়েছে যেখানে মুসলিমরা জয় নির্ধারণ করবে।
মুর্শিদাবাদ মালদহ সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনা নিয়োগ দুর্নীতি নারী নিরাপত্তা অভাব অভিযোগ তুলে সামনে লোকসভা ভোটে  বিজেপি ২কোটি ৩৩ লক্ষ ৭ হাজার ভোট পেয়েছে।
জিততে গেলে ৫% ভোট দরকার। এস আই এর ফলে এই ব্যবধানটা মিটে  গেছে বলে ধরে নেওয়া যায়।এছাড়াও গত বিধানসভায় যে ৬০ টি আসনে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীর হারের ব্যবধান পাঁচ থেকে সাত হাজার সেই ব্যবধান ও মিটে গেছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
লোকসভার ফলাফলের নিরিখে বিজেপি প্রায় ৯৫ টি আসনে এগিয়ে আছে।
বিজেপির স্টাডিজি হল যে আসনগুলো জিতেছিল তা ধরে রাখা, এবং যে আসনগুলো অল্প ব্যবধানে হেরেছিল সেগুলো জয়ের জন্য লড়াই করা।
রাজ্য সরকার ২৬ হাজার চাকরি হারানো পরিবারের ১ লাখ ভোট পাবে না যেটা ২০২১ বিধানসভায় পেয়েছিল।
এছাড়া ৩২ হাজার চাকরি ঝুলে আছে। তাদের পরিবারে এক লক্ষ লোক এবার পাবে না এটা ২০২১ এ পেয়েছিল।
ভুয়া ছাপ্পা মৃত অবৈধ বহিরাগত ভোটার এর ভোট আর পাবে না যেটা ২০২১ এ নির্বাচনে পেয়েছিল।
পরিয়ারী শ্রমিক যাদের বিজেপির ভয় দেখিয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছিল, তাদের মূলত 35 পার্সেন্ট  ভোটের উপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছিল। এই ১৫ বছরে একটিও শিল্প কারখানা না করে সেই টাকায় মেলা, খেলা, মসজিদ এবং মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে।
সরকারের কাছে যেটা উন্নয়ন, সেই ভাতা ভর্তুকি বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সরকার দিতে শুরু করেছে এবং বাংলার চেয়ে বেশি পরিমাণ দিচ্ছে।
১৫ বছর ক্ষমতা থেকে শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান নিয়ে সমস্যার সমাধান না করে উল্টে কোর্ট কেস করে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা যে বেসরকারিকরণের দিকে এগোচ্ছে তা সাধারণ মানুষের বুঝতে অসুবিধা হয়নি।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যদি ভালো অবস্থায় থাকতো তাহলে দুয়ারের স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু করতে হতো না।
এছাড়া হিন্দু ভোট অনেকটা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওয়াকফ বিল পাস হওয়ায় এবং রাজ্যের ও সেটা মেনে নেওয়ার ফলে সংখ্যালঘু ভোটের একটা অংশ বিজেপি মুখী হবে।

More From Author

ময়নায় বিজেপি নেতা খুনে অবশেষে গ্রেপ্তার তৃণমূল কর্মী বুদ্ধদেব মণ্ডল,,,

মেলায় অশ্লীল নাচের আসর, অভিযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *