ময়নায় বিজেপি নেতা খুনে অবশেষে গ্রেপ্তার তৃণমূল কর্মী বুদ্ধদেব মণ্ডল,,,

ময়নায় বিজেপি নেতা বিজয়কৃষ্ণ ভূঁইয়াকে খুনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা | এনআইএ-এর হাতে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী বুদ্ধদেব মণ্ডল। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার বুদ্ধদেবের ছেলেকে নিয়ে এনআইএ নানা জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর গোপন সূত্র মারফত জানা যায় যে বুদ্ধদেব পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন। এই খবর পেয়েই সেখানে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারী সংস্থা বুদ্ধদেব মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে কলকাতার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
২০২৩ সালের ১ মে সন্ধ্যায় বুথ সভাপতি বিজয়কে অপহরণের অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী ভূঁইয়া। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরে বাড়ির অদূরে পুকুরপাড় থেকে বিজয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মীর নাম জডায় এবং ময়না থানায় অন্তত ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়।

আটজন গ্রেপ্তার হলেও পরে পাঁচজন জামিনে মুক্ত হন। এরপর পুলিশি তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিজেপি আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-এর হাতে যায়। এনআইএ তদন্তে নেমে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে এবং প্রায় দেড় শতাধিক প্রতিনিধি মোট ১৪টি দলে ভাগ হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযুক্তদের তালিকায় বুদ্ধদেবও ছিলেন, তবে সেই সময় তাঁদের প্রায় সকলেই ফেরার ছিলেন। ফলস্বরূপ, এনআইএ কর্তারা অভিযুক্তদের বাড়ি সিল করে নোটিস সাঁটিয়ে দিয়েছিলেন।

এই বিজেপি নেতা খুনের ঘটনায় এর আগে এনআইএ আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ময়না ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি অমিতাভওরফে বাবু ভঞ্জ, বাকচা অঞ্চল তৃণমূলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি সুজিত কর। এবং পরে বাকচার গোড়ামহল এলাকা থেকে নবকুমার মণ্ডল নামে আরও এক তৃণমূলকর্মী। তৃণমূলের দাবি, তারাও ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চায়, কিন্তু বিজেপি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এর পাল্টা দাবি হিসেবে বিজেপি জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে এনআইএ তদন্ত চলছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপি আরও অভিযোগ করে, রাজ্যের শাসকদল দোষীদের আড়াল করতে মিথ্যা অভিযোগ করছে, আর একের পর এক গ্রেপ্তারই প্রমাণ করে তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

More From Author

নন্দীগ্রামের  শ্বশুরের পর এবার শাশুড়িকেও দত্তক নিলেন জামাই!

২৬ শে বাংলায় গেরুয়া শিবিরের জয় প্রায় কি নিশ্চিত?     —প্রসূন করন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *