
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হতেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক আকচা-আকচি শুরু হয়েছে। এই আবহে উত্তর চব্বিশ পরগনার হিঙ্গ লগঞ্জে এক বাংলাদেশির গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে নতুন করে অনুপ্রবেশকারী প্রশ্নে সুর চড়িয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের মির্জাপুর বাজারে শ্যামা পুজো উপলক্ষে আয়োজিত নাম-সংকীর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধৃত ওই বাংলাদেশিও জাল ভোটার কার্ড বানিয়ে এসেছিল।
বাংলাদেশি মুসলমান তাড়াতাড়ি বাংলা ছেড়ে পালাও। এর আগে নিউ মার্কেট ফাঁকা করে দিয়েছিলাম। হাজার হাজার পালিয়েছে। বাকিরা আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যান। যে পথ দিয়ে ঢুকেছেন ওই পথ দিয়ে ফিরে যান। না ফিরে গেলে অমিত শাহজি (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) যা বলেছে তাই হবে- ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট।’ এসআইআর-পর্বের মাঠ পর্যায়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত বিএলও-দের সুরক্ষার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইলেকশন কমিশনের দায়িত্ব বিএলও-দের সুরক্ষা দেওয়া। আর সুরক্ষা না দিতে। পারলে আক্রান্ত হলে বিরোধী দলনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমিও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেব। পূর্ণ সাহায্য করব।’
ইতিমধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর একটি বক্তব্য নিয়ে কমিশনের নালিশ জানিয়েছে তৃণমূল। তাতে বিএলওদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
মির্জাপুর বাজারে শ্যামা পুজো উপলক্ষে নাম-সংকীর্তনের আসরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সে বিষয়ে এদিন শুভেন্দু বলেন, ‘আমি যা বলেছি বিহারের ঘটনার প্রসঙ্গে বলেছি। আমি বলেছিলাম, বিএলওরা তৃণমূল, বিজেপি কোনও দলের কথা শুনবেন না। ইলেকশন কমিশনের কথা শুনবেন। আমি শুধু স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম বিহারে ৫২ জন বিএলও অবৈধ কাজ করেছিল বলে জেলে গেছে। এই অবস্থা এখানে যাতে না হয় সেজন্য বলেছিলাম। বোঝাই যাচ্ছে এদের (তৃণমূলের) পায়ে কাঁটা ফুটেছে। তাই ঘেউ ঘেউ করছে।’
এদিনও ভারতীয় মুসলিমদের ভয় পেতে বারণ করে শুভেন্দু আবারও বলেছেন, ‘আমরা বারবার বলেছি।
ভারতীয় মুসলমানদের কোনও সমস্যা নেই। এসআইআর প্রক্রিয়া নতুন নয়। স্বাধীনতার পরে ৮ বার হয়েছে। লাস্ট ২০০২-এ হয়েছিল ২০০৩-এ ভোটার লিস্ট বেরিয়েছিল। মৃতদের নাম বাদ যাবে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ যাবে। এতে অসুবিধা কোথায়? ভারতীয়দের কোনও সমস্যা নেই। সে হিন্দু হতে পারেন, মুসলমান হতে পারেন, শিখ হতে পারেন, খ্রিস্টান হতে পারেন, জৈন হতে পারেন, বৌদ্ধ হতে পারেন।’
অনুষ্ঠানে বিধায়ক সুমিতা সিনহা, পবিত্র প্রধান, সৌরভ মাইতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
