দিঘা, পূর্ব মেদিনীপুর: এবার দিঘার রাস্তায় দুর্ঘটনা কমাতে পথে নামল ট্রাফিক পুলিশ। শনিবার সকাল থেকেই দিঘার বিভিন্ন রাস্তায় শুরু হয় বিশেষ সচেতনতামূলক অভিযান। প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে সামনে এবং পিছনে লাগানো হয় রিফ্লেক্টিভ টেপ। রাতের বেলায় এই রিফ্লেক্টিভ টেপ দূর থেকেই জ্বলজ্বল করে দেখা যাবে, ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে আশাবাদী ট্রাফিক পুলিশ।
শনিবার দিঘা ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে পালিত হয় ‘সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচি। সকাল থেকে দিঘার হোটেল অম্বালিকা মোড় থেকে যুব আবাস মোড় পর্যন্ত একটি র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিতে অংশ নেন দিঘা থানার ট্রাফিক ওসি এসআই রমেন্দ্র নাথ শ্যাম সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ও সিভিক ভলান্টিয়াররা। রাস্তায় চলাচলকারী পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিলি করা হয়। র্যালি চলাকালীন ট্রাফিক পুলিশ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলিতে একে একে রিফ্লেক্টিভ টেপ লাগিয়ে দেন। এতে রাতের অন্ধকারে দূর থেকেই গাড়ি চিহ্নিত করা সহজ হবে। পথচারী ও চালক উভয়ের পক্ষেই এটি নিরাপত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকরাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ট্রাফিক পুলিশের এই পদক্ষেপ শুধু দুর্ঘটনা কমাবে না, বরং চালকদেরও আরও সতর্ক করে তুলবে। দিঘা ট্রাফিক পুলিশের এমন উদ্যোগে এলাকাজুড়ে দেখা যায় সচেতনতার বার্তা। কর্মসূচি শেষে দিঘার যুব আবাস মোড়ে পথচারীদের মধ্যে ফলের চারা তুলে দেন ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকরা। এর মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা, দুই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষের কাছে।
দিঘা থানার ট্রাফিক ওসি এসআই রমেন্দ্র নাথ শ্যাম বলেন, “আমরা চাই, দিঘা শুধু সুন্দর সমুদ্র সৈকতের জন্য নয়, নিরাপদ শহর হিসেবেও পরিচিত হোক। প্রত্যেক চালক ও পথচারী যদি সামান্য সচেতন হন, তাহলে অনেক দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব। আমাদের এই প্রচেষ্টা সেই উদ্দেশ্যেই।”
