১৩ বছর ধরে অবহেলিত দেশপ্রাণ ব্লকের দারিয়াপুরের ঐতিহ্যমন্ডিত কপালকুণ্ডলা মন্দির।

আবারও একটা কালীপুজো চলে এল। এবারও মূর্তিহীন অবস্থায় কাটবে কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের দারিয়াপুরের কপালকুণ্ডলা মন্দির। সোমবার সর্বত্র যখন শক্তির আরাধনা চলবে, তখন একপ্রকার অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং মূর্তিহীন হয়েই থাকবে ঐতিহ্যবাহী কপালকুণ্ডলা মন্দির। এবছরও মা কালীর মূর্তি মন্দিরে না বসায় ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। অথচ মন্দির প্রতিষ্ঠার পর  মাঝে দীর্ঘ ১৩টা বছর কেটেও গিয়েছে। তাছাড়া মন্দিরটিও সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থা। সর্বত্র ফাটল ধরেছে। প্লাস্টার খসে পড়তে শুরু করেছে। মন্দিরের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে।  এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে মন্দির সংস্কার এবং যাতে কালীমূর্তি বসানো হয়, সেই দাবি জানিয়েছেন।  উল্লেখ্য, বহুকাল ধরে পুরনো মন্দিরটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে ভগ্ন অবস্থায় পড়েছিল। এলাকাবাসীর দাবি মেনে ২০১১সালে হেরিটেজ কমিশন মন্দিরটি সংরক্ষণের কাজে এগিয়ে আসে। কমিশনের আর্থিক সহযোগিতায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২৬লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন কলেবরে মন্দিরটিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। বহুকাল আগে পুরনো মন্দিরে মা কালীর পুজো হতো। তবে ভগ্ন মন্দিরে পুজো হতো না। বলা হয়েছিল, নতুন করে মন্দিরে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে। কিন্তু দেখতে দেখতে ১২টা বছর কেটে গেলেও আজও তা হয়নি। শুধুমাত্র কালীপুজোর দিন স্থানীয় মানুষজন মন্দিরে  প্রদীপ জ্বালান। ব্যস, এই পর্যন্ত।  বরং পুরনো মন্দির থেকে কিছুটা দূরে একটি কালীমন্দির বেশ কয়েক বছর আগে গড়ে তোলা হয়েছে, তারও নামকরণ করা হয়েছে কপালকুণ্ডলা মন্দির। গ্রামবাসীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সেই মন্দিরেই পুজোকে ঘিরে মেতে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা প্রদ্যোৎ পড়িয়ারি বলেন, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস কপালকুণ্ডলার পটভূমি এই দারিয়াপুরেই রচিত হয়েছিল। বর্তমানে  মন্দিরের ভগ্নদশা অবস্থা। নানা প্রান্ত থেকে ইতিহাসপ্রেমী মানুষজন এবং পর্যটকদের অনেকেই মন্দির দর্শনে আসেন। তবে মন্দির মূর্তিহীন দেখে তাঁরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। তাঁরাও আমাদের বলে যান, মন্দিরে কালীমূর্তি থাকলে খুব ভালো হতো। মন্দিরটি পরিপূর্ণতা লাভ করত।  এবিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে এপর্যন্ত সদর্থক কিছু সাড়া মেলেনি। বিডিও শুভাশিস মজুমদার বলেন, এটা একেবারেই কাঙ্খিত নয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পর্যটন দপ্তরের নজরে আনা হবে। দ্রুত যাতে কপালকুণ্ডলা মন্দির সংস্কার এবং কালীমূর্তি স্থাপন করা হয়, সেব্যাপারে আমরা সচেষ্ট থাকব।

More From Author

পুজো পার্বণে ও পরিবর্তনে এসে গেছে।

কাঁথি আউটডোর মোড়ের “মা হঠাৎকালী”। নবম বর্ষে নতুন আঙ্গিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *