দেশপ্রাণ ব্লকের ধোবাবেড়্যা পঞ্চায়েতের মুণ্ডপাড়া গ্রামের শীতলা মন্দির প্রাঙ্গণে ৪৮ তম বর্ষের রাসোৎসবের সূচনা ঘটে বুধবার সন্ধ্যায়। গ্রামীণ উৎসবের সূচনা ঘটে নগর সংকীর্তনের মধ্য দিয়েই। হেমন্তের গ্রাম বাংলার মোহিনী প্রকৃতির কোলে মুণ্ডপাত ও দক্ষিণ দুর্গাপুর রাসোৎসব কমিটি উৎসবের আয়োজন করে। এই উৎসবের সূচনা ঘটেছিল পদ্মনাভ ব্রহ্মচারী নামে এক সাধুর হাতে। যিনি এই গ্রামে জন্মেছিলেন ও যৌবনে সন্যাস হন। দীর্ঘ জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন ও একখণ্ড ভূমিতে তিনি কুটির বানিয়ে ভিক্ষান্নে দিনগুজরাণ করতেন ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান সাধ্যমত আয়োজন করতেন। তিনি বটবৃক্ষ তলে সূচনা করেছিলেন রাসোৎসব। পরে গ্রামবাসী সেই উৎসবকে বয়ে নিয়ে চলেছে প্রতি বছর নিয়ম করে। উৎসব কমিটির সম্পাদক মানস বেরা জানিয়েছেন –উৎসব চলবে পনের দিন। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামাজিক নানা অনুষ্ঠান রয়েছে। এখানে ছোট শিশুদের ওজনে বাতাসা হরির লুট এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এগুলো মানত রক্ষার জন্য মানুষ করে থাকে। আতসবাজি আর এক আকর্ষণ। স্বাস্থ্য শিবির, রক্তদান শিবির সহ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা যেমন থাকে তেমনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকে প্রতিদিন রাতে। দশ নভেম্বর দুপুরে কয়েক হাজার মানুষকে অন্ন প্রসাদ খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাম গুলো কয়েক দিন উৎসবের সঙ্গী হয়ে যায়। উৎসব শেষে গ্রাম জীবন মাঠের আমন ধান ঘরে তুলতে নামে ও শীতের সব্জী চাষ এবং বরো চাষে ব্যাস্ত হয় গ্রাম্য প্রকৃতির জীবনযাপনে। গ্রাম্য প্রকৃতি পরিবেশ ,মানুষ আর উৎসব মিলেমিশে জীবনের জয়গান ভিন্ন জগত তৈরী করে ফি বছর।

