
নন্দীগ্রামের ঘর-জামাইয়ের কেরামতিতে শুধু ভোটার কার্ড নয়, পারিবারিক সম্পর্কের সংজ্ঞা নিয়েও রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়ে গেছে! নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের কেন্দ্যামারী অঞ্চলের রাজারামচক এলাকায় শেখ আরিয়ান নামের ওই জামাই বাবাজীবন ফের নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। স্থানীয়দের কথায়, তিনি নাকি স্ত্রীকে ভালবাসার এমন পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন যে, প্রথমেই শ্বশুরমশাই শেখ ওজিফারকে নিজের বাবা বানিয়ে ২২০ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় নাম তুলে ফেলেছিলেন! বাবা-ছেলের এই হঠাৎ সং সংযোগ দেখে আগেই চোখ ই চোখ কপালে উঠেছিল স্থানীয়দের। ‘শ্বশুর-বাবা’ থিওরি নিয়ে যখন জোর আলোচনা, ঠিক তখনই ঘটে গেল দ্বিতীয় পর্বের মহা-নাটক। নিজের নাম তালিকা থেকে বাতিলের আশঙ্কা হতেই নড়েচড়ে বসেন আরিয়ান। সিদ্ধান্ত নেন এবার তাঁর নামের ‘সাপোর্ট সিস্টেমে’ দরকার আরেকজন অভিভাবকের! আর তিনি কাকে বেছে নিলেন? অন্য কেউ নন, স্বয়ং তাঁর শাশুড়িমা-রোশনারা বেগমকে! হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন! স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিয়ান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে
অনলাইনে এসআইআর-এর গণনা ফর্মটি পূরণ করে শাশুড়ি রোশনারা বেগমকে ‘মা’ হিসেবে উল্লেখ করে দিয়েছেন। এ যেন এক লহমায় পারিবারিক সম্পর্ক পরিবর্তনের ‘জাদু’। শাশুড়িমাও হয়তো ভাবেননি, জামাইয়ের এমন ভক্তিতে তিনি একদিন মায়ের পদমর্যাদা পাবেন! মজার বিষয় হল, রোশনারা বেগমের নামও রয়েছে সেই একই বুথের ৭৯ ক্রমিক নম্বরে। এক্ষেত্রে সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ‘নো ম্যাপিং ভেরিফাই’ ফর্মটি নাকি বিএলও বাবুও নির্বিঘ্নে পাস করে দিয়েছেন। এরপরই তো নন্দীগ্রামের বাতাসে চাঞ্চল্য-এ কেমন ম্যাপিং যেখানে শাশুড়ি সরাসরি মা-এ রূপান্তরিত হন! বিডিও নাজিরুদ্দিন সরকার জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন এবং নোটিশ পাঠিয়ে অভিযুক্ত ভোটারের এই ‘মাতৃ ভক্তি’ বা ‘পিতৃভক্তির’ শুনানি হবে। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বিজেপির পক্ষ থেকে তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল এই ‘পারিবারিক ম্যাজিকের’ জন্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিএলও-দের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। পাল্টা জবাবে, তৃণমূল নেতা শেখ শামসুল ইসলাম বিষয়টিকে প্রশাসনিক র ব্যাপার বলে দায় নিতে অস্বীকার করেছেন। তবে এ জামাইবাবু, নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ইতিহাসে এক সা কথা বলাই বাহুল্য, শেখ আরিয়ান নামের এই নতুন অধ্যায় যোগ করলেন-যেখানে সম্পর্কের সমীকরণগুলি হয়ে উঠেছে ভোটের অঙ্কের থেকেও সম্পর্ক শেষমেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা জানতে বেশি জটিল! জামাই-শাশুড়ি-শ্বশুরের এই ত্রিমুখী অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে।
