
তৃণমূলের মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ। কাঠগোড়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ৩ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, তথা তৃণমূল নেতা বিকাশ বেজ। সেই নির্যাতিতা মহিলা প্রধানের কথোপকথনের অডিয়ো ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যার সত্যতা আমাদের মিডিয়া যাচাই করে দেখেনি। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও থেকে জানা যাচ্ছে, ওই মহিলা গ্রাম প্রধান , কী ভাবে যৌন হেনস্থার স্বীকার হয়েছেন।সেই মহিলা প্রধানের পরিবারের দাবি, এ বিষয়ে শাসকদলের জেলা এবং ব্লক স্তরের নেতৃত্বদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে । মোবাইলে অপরপ্রান্তে থাকা শাসকদলের এক ব্লক স্তরের নেতার কাছে ওই মহিলা গ্রাম প্রধানকে বলতে শোনা গিয়েছে, এলাকার একটি রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এ নিয়ে কথা বলতে তিনি কাঁথি ৩ পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ বেজ তাকে জেলা পরিষদের এক শীর্ষ পদাধিকারীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তিন তলায় ডেকে নিয়ে যান। এরপর সেখানে একটি বিশ্রাম কক্ষে ওই গ্রাম প্রধানকে যৌন হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।ওই নির্যাতিতা গ্রাম প্রধানের দাদা ব্লকেরই অন্য একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য। তিনি বলছেন, “আমার বোনের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। তাই সমস্ত ঘটনা জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি দলের জেলা এবং ব্লক স্তরের নেতাদের জানানো হয়েছে।”
বিরোধীদের অভিযোগ, বিডিও বা প্রশাসনিক আধিকারিক না থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকে প্রশাসনিক কার্যালয়। কিছুদিন আগেও তৃণমূল দলের এক পদাধিকারীর সহধর্মিনীকে বার্তা পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করেছিলেন সভাপতি। সে সময় কোনও রকমে মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু এ ভাবে একজন গ্রাম প্রধানের সঙ্গে আচরণ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নির্যাতিতা প্রধানের অডিয়ো বার্তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হইচই পড়েছে এলাকায়। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ বেজের বক্তব্য জানতে বারবার ফোন করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি।
এই ঘটনায় বিজেপির মহিলা বাহিনী পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে ঝাঁটা নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানাবে বলে জানিয়েছেন, রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
